জুলাইয়ে নিহত নূর মোস্তফাকে শহীদি স্বীকৃতি দানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

New-Project-11.jpg

জুলাইয়ে নিহত নূর মোস্তফাকে শহীদি স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান

২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ নূর মোস্তফার শহীদি স্বীকৃতি প্রদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে Empowering our Fighters। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকাল ৩ টায় চট্টগ্রাম জেলার সার্কিট হাউসে সংগঠনের পক্ষে উপদেষ্টা বরাবর স্মারক লিপি প্রদানে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।

গত ৫ই আগস্ট, ২০২৪ কক্সবাজারের ঈদগাঁ থানা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে নূর মোস্তফা শহীদ হয়। জাতিগতভাবে রোহিঙ্গা হলেও নূর মোস্তফার জন্ম বাংলাদেশে। জুলাই অভ্যুত্থানে নূর মোস্তফার অবদান স্বীকার করে তাকে ও তার পরিবারকে নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে নূর মোস্তফার শহীদি স্বীকৃতি প্রদানের জন্য এই আবেদন জানানো হয়। উপদেষ্টা মহোদয় দ্রুততম সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্রে শহীদ নূর মোস্তফার দেশপ্রেমের গল্প আজকে সারা দেশবাসী জানে। জাতিগতভাবে একজন রোহিঙ্গা নূর মোস্তফা ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন শহীদ। মাত্র ১৭ বছর বয়সী তরুন নূর মোস্তফা একজন মাদ্রাসা ছাত্র এবং গুণী ফুটবলার ছিলেন। জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে সে গণঅভ্যুত্থানে সাহসের সাথে অংশ নিয়ে দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে।

 

আমরা সবাই জানি, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার হাসিনার পেটোয়া বাহিনীর নির্মম গুলিতে প্রায় দুই হাজার তাজা প্রাণ ঝড়ে গেছে। এই শহীদদের সবার রাষ্ট্রের উপযুক্ত স্বীকৃতি প্রাপ্য। রাষ্ট্র এই বিষয়ে কাজ করছে বলে আমরা জানি। কিন্তু শহীদ নূর মোস্তফার জাতিগত পরিচয় রোহিঙ্গা হওয়ার কারণে তাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং তা করা হবে বলেও কোন নিশ্চয়তা আমরা পাই নি। এখানে উল্লেখ্য শহীদ নূর মোস্তফার জন্ম কক্সবাজারের ঈদগাঁ মাঠ সংলগ্ন এলাকায়। তার পিতা-মাতা ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। আজন্ম বাংলাদেশের মাটিতে বড় হওয়া নূর মোস্তফা ২০২৪ এর জুলাই মাসে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে গৌরবের সাথে অংশগ্রহণ করে।

৫ই আগস্ট ২০২৪ এ কক্সবাজারের ঈদগাঁ থানা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের গুলিতে নূর মোস্তফা শহীদ হয়।”

স্মারকলিপিতে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা উইলিয়াম ওডারল্যান্ড এর উদাহরণ দিয়ে আরো বলা হয়, ” আমরা মনে করি, সারা বাংলাদেশে প্রায় দুই হাজার শহীদের মতোই নূর মোস্তফারও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্য। যেই সূর্যসন্তানরা নিজের দেশের মুক্তির জন্য প্রাণ উৎসর্গ করার সাহস করে, তাদের প্রাণের মর্যাদা প্রদান করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের আবশ্যিক দায়িত্ব। পাশাপাশি বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জনগণের সাথে একাত্ম হয়ে সবার মুক্তির জন্য প্রাণ দেয়া মানুষদের রাষ্ট্রের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, কিন্তু কেবল রোহিঙ্গা পরিচয় এর কারণে নূর মোস্তফা এখন পর্যন্ত ‘শহীদ’ এর মর্যাদা পায়নি। অতীতে মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধুদের অবদানকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক উইলিয়াম ওডারল্যান্ড কে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘বীর প্রতীক’ খেতাব প্রদান করে।”

প্রসঙ্গত, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র রোহিঙ্গা নাগরিক নূর মোস্তফা শহীদি স্বীকৃতি না পাওয়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠে।

Leave a Reply

scroll to top