চীন জনসংখ্যা বাড়াতে নতুন নতুন  আইন প্রণয়ন করেও ব্যর্থ

New-Project-2025-03-25T120407.327.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জনসংখ্যা বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চীন সরকার।  নানা উদ্যোগ এবং নতুন নতুন আইন করেও প্রশাসন  জনসংখ্যাকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে বাড়াতে পারছে না বেইজিং। এক সময় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ‘এক সন্তান নীতি’ কঠোরভাবে অনুশীলন করত চীন।

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে নানা ধরনের আর্থিক অনুদান চালু করে বিয়ে ও সন্তান উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছে বেইজিং।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জনসংখ্যা বাড়াতে বিয়ে নথিভুক্ত করার পদ্ধতি আরও সহজ করেছে চীন। এতদিন পর্যন্ত পাত্র ও পাত্রীর স্থায়ী ঠিকানাতেই কেবল বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেত। এখন অস্থায়ী ঠিকানাতেও বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে।

আগে কেউ যদি চাকরিসূত্রে বেইজিংয়ে বাস করত কিন্তু তার স্থায়ী ঠিকানা হতো গ্রামে, সে ক্ষেত্রে তাকে গ্রামে গিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে হতো। এখন অস্থায়ী ঠিকানা অর্থাৎ চাকরিসূত্রে কিংবা অন্য কোনো কারণে অস্থায়ীভাবে যেখাবে বসবাস করছেন, সেখানেই বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে।

চীন সরকার মনে করছে, নতুন এই আইনের ফলে সময়, যাতায়াত খরচ ও অন্যান্য বিড়ম্বনা কমবে। এতে চীনা তরুণ–তরুণীরা বিয়েতে আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

২০২১ সাল থেকে তিনটি সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও নগরজীবনের উচ্চ ব্যয়, ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং যুব বেকারত্বের উচ্চহার নতুন প্রজন্মকে সন্তান গ্রহণে নিরুৎসাহী করছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিকে এখন ধীরগতির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।

চীন একমাত্র দেশ নয়, যে জনসংখ্যাগত সংকটে ভুগছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ চীনের মতোই অভিবাসনে বিধি-নিষেধ আরোপ করাসহ বিভিন্ন কারণে জনসংখ্যা হ্রাসের সম্মুখীন।

গত এক দশক ধরেই চীনের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। এর পেছনে রয়েছে বিয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং শিশু জন্মহার কমে যাওয়া। চীন সরকারের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বিয়ের হার কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। শিশু জন্মের হারও ঠেকেছে তলানীতে। এ অবস্থায় জনসংখ্যা বাড়াতে বিয়ে ও সন্তান উৎপাদনে নানাভাবে প্রণোদনা দিচ্ছে চীন সরকার।

২০১৬ সালে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিল করে। এই নীতিটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ছিল।

একদিকে অবিবাহিতদের বিয়ে প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে বিবাহবিচ্ছেদ ও গর্ভপাতের প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্তান লালন-পালনের ব্যয় মেটাতে দম্পতিদের ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে কভিড-১৯ মহামারির অবসানের পর বিয়ের হার বছরে ১২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে কয়েকটি এলাকায় জন্মহার সামান্য বাড়িয়েছে।

Leave a Reply

scroll to top