গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন সাদা দল। সংগঠনটি ইসরায়েলের এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞকে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
আজ ২০ মার্চ (২০২৫) বৃহস্পতিবার, এক বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের নেতারা বলেন, “ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েল যে নৃশংস হামলা চালাচ্ছে, তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। শিশু, নারী ও নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। এটি স্পষ্টতই গণহত্যা।”
সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম এবং অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার এই আহ্বান জানান।
ঢাবি সাদা দলের নেতারা বলেন, এমনিতেই দীর্ঘ ১৫ মাসের টানা যুদ্ধে ফিলিস্তিনকে মৃত্যু উপত্যকা বানিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের গাজাসহ কয়েকটি অঞ্চল যেন বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত। সর্বশেষ গত সোমবার (১৮ মার্চ) ভোরে পবিত্র রোজার মাসে যেভাবে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বোমা হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। সেইসঙ্গে বহুজাতিক সংগঠন জাতিসংঘকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী নিরীহ ফিলিস্তিনিদের পাশে খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে। অবিলম্বে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ বন্ধ করে ফিলিস্তিনীদের পূর্ণ অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়ে তা রক্ষা করতে হবে।
সাদা দলের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, “বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলো গাজার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখছে। কিন্তু তারপরও জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবতা গভীর উদ্বেগজনক। আমরা এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে বিশ্বনেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের এই নিন্দা বার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি দেশের সচেতন নাগরিকদেরও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েল অব্যাহতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।