গবেষণা রিপোর্টে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ ফলের অভিযোগ জাবি শিক্ষার্থীর

New-Project-22-3.jpg

গবেষণা রিপোর্টে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ ফলের অভিযোগ জাবি শিক্ষার্থীর

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক রাজনীতির বলি হয়ে তার গবেষণা রিপোর্টের নম্বর ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভাগের দুইটি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের কারণে তাকে অন্যায্যভাবে খারাপ ফল দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তার। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন, জাবি প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আশীষ কুমার দত্ত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একই বিভাগের মো. রবিন হোসেন।

জানা গেছে, জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য Project/Research Report কোর্স বাধ্যতামূলক। এটি দুই ক্রেডিটের একটি মূল্যায়নভিত্তিক কোর্স, যেখানে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীর সুপারভাইজার এবং দ্বিতীয় পরীক্ষক হিসেবে বিভাগের অন্য একজন শিক্ষক নম্বর প্রদান করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি ওয়াইল্ডলাইফ ব্রাঞ্চের প্রফেসর ড. মনিরুল হাসান খানের অধীনে তার গবেষণা রিপোর্ট সম্পন্ন করেন। কিন্তু দ্বিতীয় পরীক্ষক হিসেবে মনোনীত প্রভাষক আশিস কুমার দত্ত ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ফেল করানোর জন্য অত্যন্ত কম নম্বর দেন। পরবর্তী ধাপে তৃতীয় পরীক্ষকও একই পক্ষের হওয়ায় তিনিও তার নম্বর বাড়াননি।

প্রাপ্ত গ্রেডশিট অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী অন্যান্য সকল বিষয়ে ভালো ফল করলেও শুধুমাত্র Project/Research Report কোর্সে D (2.00) পেয়েছেন। তার অন্যান্য বিষয়গুলোতে তিনি A+ (4.00), A (3.75), এবং B+ (3.25) পেয়েছেন, যা স্পষ্টতই তার সাধারণ পারফরম্যান্সের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এ ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তার গবেষণা রিপোর্ট ঢাবি, রাবি কিংবা চবির শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হোক। সেখানে যদি তিনি প্রকৃতপক্ষে খারাপ নম্বর পান, তবে তিনি তা মেনে নেবেন। তবে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কমিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক আশীষ কুমার দত্তের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মানছুরুল হক বলেন, “এ বিষয়ে এখন কিছু বলতে পারছি না, কখন পারব তা বলা মুশকিল। অফিসে এসে দেখা করেন।” এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষকও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে নিন্দা জানিয়েছেন।

Leave a Reply