এবার পার্বত্য তিন জেলাতেই অবরোধের ঘোষণা, নতুন ৮ দাবি

khagrachari-1-f7d6c7915a966ff6f64d34337c1710bb.jpg
মো: আল মামুন নিজস্ব প্রতিবেদক

খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ এবার ছড়িয়ে পড়ল পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে। রাঙামাটি ও বান্দরবানকে যুক্ত করে তিন জেলাতেই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্ট।

রোববার রাতে ফ্রন্টের ব্যানারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ছাত্রনেতার স্বাক্ষর ছিল না।

আগে শুধুমাত্র ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি তোলা হলেও এবার দাবি বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটটিতে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্ষণ মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, সেনা ও সেটলারদের হামলার তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আটক ছাত্র-জনতার মুক্তি, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা এবং ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার। ফ্রন্টের দাবি, এসব বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

অবরোধকারীরা অভিযোগ করেছে, গত কয়েকদিন ধরে খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি, গ্রেপ্তার, হামলা এবং সেটলারদের লুটপাট-অগ্নিসংযোগে অন্তত চার জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, সুবিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এদিকে খাগড়াছড়ি সদর ও গুইমারায় জারি করা ১৪৪ ধারা এখনো বহাল আছে। এতে দোকানপাট, যানবাহন চলাচল ও জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা।

রোববার গুইমারায় নিহত তিনজনের মরদেহ খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের। সোমবার তাদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে একইদিন কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গাছড়া চেকপোস্ট থেকে বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ করেছে বিজিবি। পুলিশ জানিয়েছে, এগুলো খাগড়াছড়িতে নেওয়া হচ্ছিল চলমান পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার উদ্দেশ্যে।

অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে তিন জেলার জনজীবন। বাজার-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা, অফিস-আদালতে উপস্থাপন কমে এসেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Leave a Reply

scroll to top