বিশ্বের অন্যতম সেরা ফটোগ্রাফি এওয়ার্ড, “উইজডেন” এর বর্ষসেরা এম্যাচার ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক এই পুরস্কারটি তার সৃজনশীল ও দক্ষ আলোকচিত্র শৈলীর স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
গত বুধবার (২রা এপ্রিল) বিশ্বের অন্যতম সেরা ফটোগ্রাফি এওয়ার্ড, “উইজডেন” এর বর্ষসেরা এম্যাচার ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। সেখানে বর্ষসেরা এম্যাচার ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে রানারআপ হন মাহফুজ। এই অর্জন ফটোগ্রাফারদের কাছে স্বপ্ন জয় করার মতো।
জানা যায়, মাহফুজ দীর্ঘদিন ধরে আলোকচিত্রের সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। তার তোলা ছবি নান্দনিকতার সঙ্গে বাস্তবতার এক অনন্য সংমিশ্রণ সৃষ্টি করে, যা বিচারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পুরস্কার গ্রহণের পর মাহফুজ বলেন, “এই অর্জন আমার জন্য অনুপ্রেরণার। আমি আলোকচিত্রের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে চাই এবং ভবিষ্যতেও এই শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যাব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরাও তার এই সাফল্যে আনন্দিত। বাংলা বিভাগের অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, মাহফুজের প্রতিভা ও পরিশ্রম তাকে এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার আরও সাফল্য কামনা করেন।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “মাহফুজের এই সাফল্য আমাদের বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি তার সৃজনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে অধ্যবসায় এবং প্রতিভার মিশেলে বড় অর্জন সম্ভব। আমরা আশা করি, তিনি ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের পুরস্কার অর্জন করবেন এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন।”
অন্য এক শিক্ষক অধ্যাপক তানভীর আহমেদ বলেন, “শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কার্যক্রমে মাহফুজের এই সফলতা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার। তার ফটোগ্রাফিতে সমাজের বাস্তবতা ও শিল্পের নিপুণ সমন্বয় রয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এই সম্মাননা তাকে দেশ-বিদেশের ফটোগ্রাফি জগতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাজীপুরের টঙ্গীতে বেড়ে ওঠা আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের স্কুলজীবন থেকে ছবি তোলার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। মোবাইল দিয়েই শখের ছবি তোলা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে সেই ছবিগুলো দিয়ে অংশগ্রহণ করতে থাকেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়। সে সময় বিজয়ী হতে থাকলে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এবং আরো বেশি ছবি তোলার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন।
তবে সংগ্রামের জীবনে ক্যামেরার শখ অপূর্ণ থেকে যায় তার। কিন্তু মোবাইলে ছবি তোলা থামেনি। কলেজের গণ্ডি পেড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা বিভাগে ভর্তি হয়ে আরো বেশি আগ্রহ জন্মে ফটোগ্রাফির প্রতি। এরই মধ্যে দেশ ও বিদেশে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।
আমেরিকা ভিত্তিক কোম্পানির সাথে ফটোগ্রাফির প্রজেক্ট এর কাজ করেও নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নেন তিনি। পাশাপাশি ইউকে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ফটো এন্ড নিউজ এজেন্সিতে যুক্ত হয়ে সেখান থেকেও আর্থিক উপার্জন করতে থাকেন মাহ্ফুজ।