মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে গড়িয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে সামনে এসেছে চীন, পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তবে সংঘাতের শেষ কোথায়—তা এখনও অনিশ্চিত। এই প্রেক্ষাপটে চীন-পাকিস্তান যৌথভাবে একটি ‘পাঁচ দফা’ শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা।
দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর হঠাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে শি জিনপিং-এর নেতৃত্বাধীন চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ অর্থনীতি।
বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে তেলের দামের অস্থিরতা চীনের শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনীতি চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিলে চীনের কারখানা ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইরাকে তাদের বিভিন্ন অবকাঠামো ও জ্বালানি প্রকল্প চলমান।
একই সঙ্গে চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে। ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চীন এর আগে ২০২৩ সালে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতা করে আংশিক সাফল্য পেয়েছিল। এছাড়া ফিলিস্তিনি বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগও নেয় বেইজিং।
এসব উদ্যোগ চীনকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরেছে।
তবে চীনের এই শান্তি উদ্যোগের বড় সীমাবদ্ধতা হলো সামরিক প্রভাবের অভাব। যুক্তরাষ্ট্রের মতো অঞ্চলজুড়ে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি নেই তাদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন মূলত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল—সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ তাদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে চীনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
চীনের এই উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এতে সাড়া দেয়নি।
তবে এই প্রচেষ্টা শি জিনপিং-কে একটি বৈশ্বিক শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ দিচ্ছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিপরীতে একটি বিকল্প কূটনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে পারে।
চীনের শান্তি উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমঝোতার ওপর। তবে এটুকু স্পষ্ট—মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব বাড়াতে এবং বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে অবস্থান জোরদার করতে চীন এখন আরও সক্রিয়।





