ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আজ সকালে (২৪ মার্চ) তাকে কারাগার থেকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াক তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
এ সময় সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম তার আইনজীবীদের প্রশ্ন করেন, আজকে কোন মামলা? কয়টা মামলা হয়েছে? আতিকুল ইসলামের এমন প্রশ্নের জবাবে তার এক আইনজীবী বলেছেন, স্যার, ৬০টার মতো মামলা হয়েছে। পাশে থাকা আরেক আইনজীবী বলেন, না স্যার। ৫৬টার মতো মামলা হয়েছে। আতিকুল তখন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাদীকে চিনি না; বাদীও আমাকে চেনেন না।
সোমবার (২৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালতে আইনজীবীর সঙ্গে তিনি এই আলাপ করেন। আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালত থেকে পুলিশ পাহারায় তাকে হাজতে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সাবেক শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারকে আদালতের কাঠগড়ায় বসার জন্য কাঠের চেয়ার দেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের অনুরোধে তাকে এ চেয়ার দেন আদালতের এক কর্মচারী।
সোমবার (২৪ মার্চ ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালতের কাঠগড়ায় তাকে তোলা হয়। এদিন সকাল ১০টা ৮ মিনিটে তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তাকে হেলমেট, বুলেট প্রুভ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো ছিল। দুই পুলিশ সদস্য তাকে ধরে আদালতে তোলেন। আদালতে তোলার পর তার হেলমেট খোলা হয়। তখন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ সময় সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম তাকে বসতে দেওয়ার জন্য চেয়ার দিতে অনুরোধ করেন। তখন আদালতের এক কর্মচারী আতিকুলের কাছে কাঠের চেয়ার দেন। এরপর ১০টা ১৩ মিনিটে আতিকুল ওই চেয়ারে তাকে বসতে দেন। পুরা শুনানি চলাকালে তিনি এই চেয়ারে বসে ছিলেন। মাঝে মধ্যে কাঠগড়ার লোহার বেরিকেডে মাথানিচু ছিলেন। এ সময় তার বাম হাতে হাতকড়া ছিল।
এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আতিকুল ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক মেয়র। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি মেয়র হন।