অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড থেকে খালাস পেলেন লুৎফুজ্জামান বাবর

New-Project-2025-03-19T133824.028.jpg
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সময়ের আলোচিত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ১৭ বছর পর কারামুক্তিতে উচ্ছ্বসিত নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাসা থেকে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৯ মার্চ) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে বাবরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

২০০৭ সালের ২৮ মে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাবরের গুলশানের বাসার শোয়ার ঘর থেকে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করার অভিযোগে একই বছরের ৩ জুন রাজধানীর গুলশান থানায় এ মামলা করা হয়।

লুৎফুজ্জামান বাবর দুদকের মামলায় ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে শুনানিতে দেশের বিভিন্ন আদালত প্রাঙ্গণে হাজির হওয়াই ছিল এক সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একমাত্র প্রকাশ্য উপস্থিতি।

বিচার শেষে একই বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর নয় নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত বাবরকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে ২০০৭ সালেই আপিল করেন। অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড থেকে খালাস পেলেন লুৎফুজ্জামান বাবর

খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুর রউফ স্বাধীন বলেন, ‘যারা সাজানো মামলায় আমাদের নেতাকে ফাঁসির রায় দিয়েছিল, তারা আজ দেশছাড়া। তাদের জন্য ঝুলছে ফাঁসির দড়ি। এটাই হচ্ছে ইতিহাসের নির্মম সত্য। আমাদের নেতা, আমাদের সন্তান এখন মুক্ত। আদালত তাঁকে সাজানো মামলা থেকে রেহাই দিয়েছেন। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তাঁর আগমনের আশায় এখন হাওরপারের মানুষ প্রতীক্ষায় রয়েছেন।’

মদনের বগজান এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘বাবর ভাই এই ভাটি এলাকার প্রাণপুরুষ। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন, এলাকার ব্যাপক ‍উন্নয়নসহ অসংখ্য মানুষকে চাকরি দেওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া প্রকাশ করছি। তাঁকে অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়েছিল।’

এরপর বিভিন্ন মামলায় তার দণ্ড হয়। সেসব মামলা থেকে খালাস ও জামিনের পর চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি। এ মামলার কার্যক্রম হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত ছিল।

Leave a Reply

scroll to top